11
Jul
ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা ও সাফল্যের চাবিকাঠি
কল্পনা করুন, আপনি এমন একটি রাস্তার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন যেখানে আপনার সামনে দুটি দরজা রয়েছে। প্রথম দরজাটি অত্যন্ত নিরাপদ; এর পেছনে রয়েছে আপনার আজকের পরিচিত জীবন, চেনা অভ্যাস, পরিচিত ভয় এবং একটি আরামদায়ক গণ্ডি বা কমফোর্ট জোন। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দরজাটি কিছুটা ভীতির। এর পেছনে রয়েছে অনিশ্চয়তা, চ্যালেঞ্জ, ব্যর্থতার ঝুঁকি এবং মানুষের সমালোচনা। কিন্তু এই দ্বিতীয় দরজার পেছনেই লুকিয়ে আছে আপনার স্বপ্ন, ব্যক্তিগত বৃদ্ধি এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। আপনি কোন দরজাটি বেছে নেবেন?
বেশিরভাগ মানুষ প্রথম দরজাটি বেছে নেয় কারণ মানুষের মস্তিষ্ক প্রাকৃতিকভাবেই নিরাপত্তা চায়। কিন্তু বেন কারসনের ‘দ্যা পাওয়ার অফ রিস্ক’ আমাদের শেখায় যে, আসল সাফল্য সবসময় দ্বিতীয় দরজায় অর্থাৎ ঝুঁকির পেছনেই লুকিয়ে থাকে। আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তি হলো আমরা ভাবি ঝুঁকি নেওয়া বিপজ্জনক, কিন্তু সত্যিটা হলো ঝুঁকি না নেওয়াই জীবনের সবচেয়ে বড় বিপদ।
ঝুঁকি কি সত্যিই বিপজ্জনক?
একটি বীজ যদি মাটির নিচে পড়ে থেকে ভাবত যে সে নিরাপদ থাকবে, বাইরের রোদ-বৃষ্টির মুখোমুখি হবে না, তবে সে কোনোদিন গাছ হয়ে উঠতে পারত না। সে চিরকাল একটি বীজ হিসেবেই থেকে যেত। ঠিক তেমনি, মানুষ যদি তার কমফোর্ট জোনের ভেতরেই বন্দি থাকে, তবে তার ভেতরের সুপ্ত সম্ভাবনাগুলো কখনোই বিকশিত হয় না।
ঝুঁকি নেওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনাকে বেপরোয়া বা হঠকারী হতে হবে। ঝুঁকি নেওয়ার আসল অর্থ হলো নিজের উন্নতির পথ বেছে নেওয়া। ছোটবেলায় আমাদের শেখানো হয় যে ভুল করা খারাপ। স্কুলে ভুল করলে লাল কালি পড়ে, বাড়িতে বকা শুনতে হয়। ফলে আমাদের মস্তিষ্ক ধরে নেয় যে ব্যর্থতা মানেই খারাপ কিছু। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ব্যর্থতা কোনো খারাপ বিষয় নয়, বরং এটি একটি ‘ফিডব্যাক’ বা শিক্ষা। একটি শিশু যদি পড়ে যাওয়ার ভয়ে হাঁটা শুরু না করত, তবে সে কোনোদিন দৌড়াতে শিখত না।
ব্যর্থতা এবং মানসিকতার শক্তি
থমাস এডিসন বাল্ব আবিষ্কারের আগে হাজার বার ব্যর্থ হয়েছিলেন। যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো যে হাজার বার ব্যর্থ হয়ে তার খারাপ লাগেনি কেন, তিনি উত্তর দিয়েছিলেন— "আমি ব্যর্থ হইনি, বরং আমি এমন এক হাজারটি উপায় খুঁজে পেয়েছি যা কাজ করে না"। এটিই হলো ঝুঁকি নেওয়ার আসল শক্তি। যখন আপনি ঝুঁকি নেন, তখন শুধু আপনার ফলাফল বদলায় না, বরং আপনি নিজেও বদলে যান। আপনার মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় এবং আপনি অনিশ্চয়তার সাথে মানিয়ে নিতে শেখেন।
অনেকেই তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন না কারণ তারা সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকেন। তারা ভাবেন যখন সবকিছু ঠিক হবে তখন শুরু করবেন। কিন্তু মনে রাখবেন, সঠিক সময় কখনোই আসে না। যারা জীবনে মহান হয়েছেন, তারা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই কাজ শুরু করেছিলেন। যখন স্টিভ জবস অ্যাপল শুরু করেন তখন তার কাছে কোটি টাকা ছিল না। এলন মাস্ক যখন স্পেস-এক্স শুরু করেন, তখন সবাই তাকে পাগল বলেছিল। একের পর এক রকেট ধ্বংস হয়েছে, উপহাস সইতে হয়েছে, কিন্তু তারা ঝুঁকি নিয়েছিলেন বলেই আজ তারা ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।
ঝুঁকি নেওয়ার বিভিন্ন রূপ
ঝুঁকি নেওয়া মানেই যে সবসময় টাকা বিনিয়োগ করা, তা নয়। ঝুঁকির বিভিন্ন রূপ হতে পারে:
নিজের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা একটি ঝুঁকি।
একটি বিষাক্ত সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসা ঝুঁকি।
নতুন কোনো দক্ষতা শেখা একটি ঝুঁকি।
প্রয়োজনে কাউকে ‘না’ বলতে পারা একটি ঝুঁকি।
প্রতিটি বড় পরিবর্তন একটি ছোট ঝুঁকি থেকেই শুরু হয়। যেমন একজন মেয়ে যে গান গাইতে ভালোবাসত কিন্তু মানুষের সামনে আসতে ভয় পেত, সে যখন প্রথমবার একটি ছোট মঞ্চে কাঁপাকাঁপা গলায় গান গাইল, সেটিই ছিল তার জীবনের বড় ঝুঁকি। সেই ছোট পদক্ষেপই তাকে আজ হাজার মানুষের সামনে পারফর্ম করার সাহস জুগিয়েছে।
ভয় নাকি সম্ভাবনা: আপনি কার কথা শুনছেন?
ভয় আপনার ভেতরে সবসময় থাকবে। সাহসী সেই নয় যার ভয় নেই, বরং সাহসী সে যে ভয়ের পরেও পা বাড়ায়। কল্পনা করুন আপনার কাঁধে ভয় বসে সবসময় কানে ফিসফিস করছে— "এটা করো না, বিপদ আছে"। কিন্তু আপনার ভেতরে আরেকটা কণ্ঠস্বরও আছে, সেটি হলো সম্ভাবনার কণ্ঠস্বর। সফল মানুষরা ভয়ের কথা নয়, বরং সম্ভাবনার কথা শোনেন।
ঝুঁকি নেওয়ার একটি বড় সুবিধা হলো এটি আপনার মধ্যে স্বচ্ছতা বা ক্ল্যারিটি নিয়ে আসে। আপনি যখন কাজ শুরু করেন, তখন বুঝতে পারেন কোনটি কার্যকর আর কোনটি নয়। অন্যদিকে, শুধু ভাবতে থাকলে মনের ভেতরে বিভ্রান্তি এবং উদ্বেগ বাড়ে। কাজ আপনাকে স্বচ্ছতা দেয়, আর অতিরিক্ত চিন্তা (Overthinking) দেয় উদ্বেগ। একজন কৃষক যদি বীজ বোনার আগে ১০০ বার ভাবে যে বৃষ্টি হবে কি না, তবে সে কোনোদিন ফসল ঘরে তুলতে পারবে না।
হিসাব কষা ঝুঁকি বা ক্যালকুলেটেড রিস্ক
বইটি আমাদের শেখায় চোখ বন্ধ করে ঝাঁপ না দিতে, বরং প্রস্তুতির সাথে ঝুঁকি নিতে। তথ্য সংগ্রহ করুন, পরিকল্পনা করুন এবং তারপর অ্যাকশন নিন। একেই বলা হয় ‘ক্যালকুলেটেড রিস্ক’। ধরুন আপনি চাকরি ছেড়ে ব্যবসা শুরু করতে চান। এর মানে এই নয় যে আজই পদত্যাগ করবেন। প্রথমে দক্ষতা অর্জন করুন, কিছু টাকা সঞ্চয় করুন এবং ছোট পরিসরে শুরু করুন। এটিই হলো স্মার্ট রিস্ক।
সামাজিক বাধা এবং আপনার নিজস্ব সত্তা
আমাদের সমাজ সাধারণত ঝুঁকি গ্রহণকারীদের প্রথমে সমালোচনা করে, পরে তাদের সাফল্য উদযাপন করে। আপনি যখন নতুন কিছু করবেন, মানুষ বলবে— "এটা সম্ভব নয়"। কিন্তু আপনি যখন সফল হবেন, সেই একই মানুষ বলবে— "আমি জানতাম তুমি পারবে"। তাই মানুষের কথার চেয়ে নিজের ভেতরের কণ্ঠস্বরকে বেশি গুরুত্ব দিন।
একটি ইগল যখন ওড়া শেখে, তার মা তাকে বাসা থেকে ঠেলে বাইরে ফেলে দেয়। সেই মুহূর্তে ইগল ছানাটির মনে হয় তার সব শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সেই পড়ে যাওয়ার সময়ই তার ডানা মেলে এবং সে উড়তে শেখে। জীবনও মাঝে মাঝে আমাদের এভাবে ধাক্কা দেয়, যা আসলে কোনো শাস্তি নয় বরং পরবর্তী যাত্রার প্রস্তুতি।
কখনও কখনও সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো নিজের আসল পরিচয় পৃথিবীর সামনে তুলে ধরা। অনেকেই অন্যকে খুশি করতে গিয়ে নিজের মৌলিকত্ব হারিয়ে ফেলে। কিন্তু আপনি যখন নিজের প্রতি সৎ থাকেন, তখন রিজেকশন বা প্রত্যাখ্যানের ভয় থাকলেও সেখানেই আসল স্বাধীনতা নিহিত।
আত্মবিশ্বাস আসে কাজ থেকে
অনেকে ভাবেন আগে আত্মবিশ্বাস আসুক, তারপর কাজ শুরু করব। কিন্তু বাস্তবতা এর উল্টো। আগে অ্যাকশন নিন, আত্মবিশ্বাস আসবে কাজের মাধ্যমে। যেমন আপনি যখন প্রথমবার সাইকেল চালিয়েছিলেন, তখন পড়ে যাওয়ার ভয় ছিল। কিন্তু আপনি ঝুঁকি নিয়েছিলেন বলেই আজ অনায়াসে সাইকেল চালাতে পারেন।
আপনি যদি বারবার শুধু নিরাপদ পথ বেছে নেন, তবে আপনার জগতটা ছোট হয়ে যাবে। কিন্তু ঝুঁকি নিলে আপনার জগত প্রসারিত হয়, নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হয় এবং নতুন সুযোগ তৈরি হয়। আপনি কি সারাজীবন একটি আরামদায়ক ঘরে এসি আর সোফার মধ্যে বন্দি থাকতে চান, নাকি জানলার বাইরের পাহাড়, সমুদ্র আর রোমাঞ্চকর পৃথিবীর স্বাদ নিতে চান? বাইরে বের হতে গেলে আপনাকে দরজা খোলার ঝুঁকিটুকু নিতেই হবে।
ব্যর্থতা সাময়িক, কিন্তু অনুশোচনা চিরস্থায়ী
আজ আপনার জীবনে দেখুন কোথায় আপনি ভয়ের কারণে থমকে আছেন। কোনো স্বপ্ন কি পিছিয়ে দিচ্ছেন? কোনো সিদ্ধান্ত কি এড়িয়ে যাচ্ছেন? মনে রাখবেন, ব্যর্থতা সাময়িক কিন্তু অনুশোচনা বা রিগ্রেট সারাজীবনের জন্য হতে পারে। দশ বছর পর আপনি আপনার ব্যর্থতাগুলো গুনবেন না, বরং সেই সুযোগগুলোর কথা ভেবে আফসোস করবেন যা আপনি ভয়ের কারণে ছেড়ে দিয়েছিলেন।
একজন বৃদ্ধ মানুষকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ কী, তিনি বলেছিলেন— "আমি যা করেছি তার জন্য আমার আক্ষেপ নেই, বরং আমি যা করতে পারতাম কিন্তু ভয়ের কারণে করিনি, তার জন্যই আমার যত আক্ষেপ"। জীবন বদলানোর জন্য কখনও কখনও শুধু একটি সাহসী সিদ্ধান্তই যথেষ্ট— হতে পারে সেটি একটি ফোন কল, একটি অ্যাপ্লিকেশন জমা দেওয়া বা একটি কথোপকথন।
ছোট পদক্ষেপের বড় শক্তি
ঝুঁকি নেওয়া মানেই যে সবসময় বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে তা নয়। বড় পরিবর্তন প্রায়ই ছোট ছোট পদক্ষেপ থেকে শুরু হয়:
সকালে এক ঘণ্টা আগে ঘুম থেকে ওঠা একটি ঝুঁকি, কারণ এতে আপনি আপনার পুরনো অভ্যাস ভাঙছেন।
নতুন কোনো বিষয় শিখতে শুরু করা ঝুঁকি, কারণ এতে আপনাকে আবারও একজন নবিশের (Beginner) ভূমিকায় নামতে হয়।
কারও কাছে ক্ষমা চাওয়া একটি ঝুঁকি, কারণ সেখানে প্রত্যাখ্যানের ভয় থাকে।
বাবা-মায়ের কাছে নিজের স্বপ্নের কথা বলা একটি ঝুঁকি।
প্রতিটি ছোট ঝুঁকি আপনার ভেতরে নতুন আত্মবিশ্বাস জন্ম দেয়। শিশু যখন প্রথম স্কুলে যায়, সে কাঁদে কারণ সে তার নিরাপদ স্থান ছেড়ে এক অজানা জগতে যাচ্ছে। কিন্তু কয়েকদিন পর সেই স্কুলই তার উন্নতির কেন্দ্রে পরিণত হয়। জীবনের প্রতিটি নতুন অধ্যায় শুরুতে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে, কিন্তু সেই অধ্যায়টিই পরে আপনার শক্তিতে পরিণত হয়।
মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং উদাহরণ
ঝুঁকি নেওয়ার জন্য প্রথমে আপনার মানসিকতা বা মাইন্ডসেট বদলাতে হবে। আপনার ফোকাস যদি শুধু ক্ষতির দিকে থাকে, তবে আপনি সারাজীবন ভয়ে থাকবেন। কিন্তু ফোকাস যদি সম্ভাবনার দিকে থাকে, তবে আপনি কাজ শুরু করতে পারবেন। জে. কে. রাউলিংকে অনেক প্রকাশক প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি যদি সেই প্রত্যাখ্যানের পর ঝুঁকি নেওয়া বন্ধ করে দিতেন, তবে হ্যারি পটার সিরিজ আমরা কোনোদিন পেতাম না।
অনেকে ভাবেন তাদের কাছে পর্যাপ্ত সম্পদ (Resources) নেই। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে সম্পদের চেয়ে ‘রিসোর্সফুলনেস’ (উপায় বের করার ক্ষমতা) বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সফল ব্যক্তিরা টাকা বা সমর্থন ছাড়াই শুরু করেছিলেন, তাদের কাছে ছিল শুধু ঝুঁকি নেওয়ার প্রবল ইচ্ছা। আপনিও সেই বীজের মতো যার ভেতরে বিশাল সম্ভাবনা আছে, কিন্তু অ্যাকশন না নিলে সেই সম্ভাবনা অর্থহীন।
পরিশেষ: ডিসিপ্লিন বনাম অনুশোচনা
জীবনে দুই ধরণের কষ্ট আছে— ডিসিপ্লিনের কষ্ট আর অনুশোচনার কষ্ট। ডিসিপ্লিনের কষ্ট সাময়িক, কিন্তু অনুশোচনার কষ্ট সারাজীবনের। ঝুঁকি নেওয়া ডিসিপ্লিন দাবি করে, কিন্তু ঝুঁকি না নেওয়ার মাশুল অনেক বেশি হতে পারে।
আপনার ভবিষ্যৎ সত্তা আজ আপনাকে দেখছে এবং চাইছে আপনি আজ সেই পদক্ষেপটি নিন যা আপনার জীবনকে আরও সুন্দর করবে। আজ নিজের কাছে একটি ওয়াদা করুন যে আপনি নিখুঁত হওয়ার অপেক্ষা করবেন না, ভয়ের সত্ত্বেও এগিয়ে যাবেন এবং ব্যর্থতাকে ভয় পাবেন না। মনে রাখবেন, যারা ঝুঁকি নেওয়ার সাহস রাখে তারাই ইতিহাস লেখে, বাকিরা শুধু ইতিহাস পড়ে।
তাই আজই একটি ছোট ঝুঁকি বেছে নিন, আপনার কমফোর্ট জোনের দেয়াল ভাঙুন। কারণ প্রকৃত রূপান্তর সবসময় কাজের পরেই আসে, আগে নয়। আপনার জীবনের পরবর্তী চ্যাপ্টার হয়তো আপনার আজকের নেওয়া একটি সাহসী সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে। আপনার যাত্রা শুরু হোক আজ থেকেই।
প্রিয় পাঠক, যদি লেখাটি আপনার উপকারে আসে দয়া করে সবার মাঝে শেয়ার করবেন এবং দোয়া করবেন ইন শা আল্লাহ্।
Md. Sahinur Rahaman (Sahin Sir)
English Teacher & Public Speaker